ফেরাউনের স্ত্রী হযরত আছিয়া (আঃ) এর জীবনী
হযরত আছিয়া (আ.) ছিলেন প্রাচীন মিসরের ফেরাউনের স্ত্রী এবং ইসলামের ইতিহাসে ঈমানদার ও মহীয়সী নারীদের অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর স্বামী ফেরাউন ছিল অত্যাচারী, অহংকারী ও দম্ভে পরিপূর্ণ শাসক। সে মানুষের ওপর জুলুম করত এবং নিজেকে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইত। কিন্তু এমন এক অত্যাচারী পরিবেশে বসবাস করেও হযরত আসিয়া (আ.) কখনো ফেরাউনের অন্যায় ও অহংকারকে নিজের চরিত্রে স্থান দেননি।
হযরত আছিয়া (আ.) ছিলেন দয়ালু, কোমল হৃদয়ের, শালীন ও মানবিক গুণে সমৃদ্ধ একজন
নারী। ফেরাউনের স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ব্যক্তিত্ব ফেরাউনের চরিত্রের
দ্বারা প্রভাবিত হয়নি। বরং তিনি সত্য, ন্যায় ও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসকে নিজের
জীবনের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর জীবন প্রমাণ করে, একজন মানুষের
চারপাশের পরিবেশ যতই প্রতিকূল হোক, সে চাইলে নিজের ঈমান ও নৈতিকতা অটুট রাখতে
পারে।
পোস্ট সূচিপত্রঃ ফেরাউনের স্ত্রী হযরত আছিয়া (আঃ) এর জীবনী
- হজরত আছিয়া (আঃ)-এর ঈমানী দৃঢ়তা
- হজরত আছিয়া (আঃ)-এর পরিচয়
- হজরত আছিয়া (আঃ)-এর পূর্বপুরুষগণ
- হজরত আছিয়া (আঃ)-এর বিদ্যাশিক্ষা ও ফেরাউনের সঙ্গে বিবাহ
- হজরত আছিয়া (আঃ) ও মূসা (আঃ)-এর ইবাদত বন্দেগী
- হজরত আছিয়া (আঃ)-এর উপর নির্যাত ও কারাবাস
- হজরত আছিয়া (আঃ)-যে দোয়া করেছিলেন
- হজরত আছিয়া (আঃ)-এর প্রার্থনা
- হজরত আছিয়া (আঃ)-এর ধর্মোপদেশ
- হজরত আছিয়া (আঃ)-এর জান্নাত লাভ
- হজরত আছিয়া (আঃ)-এর মৃত্যু
- হজরত আছিয়া (আঃ) মুসলিম নারীদের জন্য কিসের আদর্শ?
- শেষকথাঃ হযরত আছিয়া (আঃ) এর জীবনী
হজরত আছিয়া (আঃ)-এর ঈমানী দৃঢ়তা
হজরত আছিয়া (আঃ)-এর ঈমানী দৃঢ়তা ইসলামের ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত। ফেরাউনের
মতো শক্তিশালী শাসকের স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনো মিথ্যার কাছে মাথা নত
করেননি। অকথ্য নির্যাতন, কারাবাস এবং মৃত্যুর হুমকি তাঁর ঈমানকে দুর্বল করতে
পারেনি। বরং প্রতিটি পরীক্ষায় তিনি আরও দৃঢ়ভাবে আল্লাহর ওপর ভরসা করেছেন।
ফেরাউনের ক্ষমতা ও প্রভাব তাঁর চরিত্রকে কলুষিত করতে পারেনি; বরং তিনি সত্যের
ওপর অবিচল থেকেছেন দৃঢ়তার সঙ্গে।
শিশু মূসা (আঃ)-এর রক্ষাকর্ত্রীঃ যখন ফেরাউনের লোকেরা নীলনদ থেকে একটি
শিশুকে তুলে আনে, বিবি আছিয়া (আঃ) শিশুটির মুখে এক অপার্থিব নূরের ঝলক দেখতে
পান। তাঁর অন্তর মমতায় ভরে ওঠে। কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা সেই ঘটনার বর্ণনা
দিয়েছেন “ফেরাউনের স্ত্রী বলল, ‘এ শিশু আমার ও তোমার চোখের শীতলতা; একে
হত্যা করো না। সম্ভবত সে আমাদের উপকারে আসবে অথবা আমরা তাকে সন্তানরূপে গ্রহণ
করব। (সূরা কাসাস: ৯) এইভাবেই আল্লাহর কুদরতে বিবি আছিয়া (আঃ) শিশু মূসা
(আঃ)-এর জীবন রক্ষার উসিলা হন।
ঈমানের পরীক্ষা ও নির্মম নির্যাতনঃ পরবর্তী সময়ে মূসা (আঃ)
নবুয়তপ্রাপ্ত হয়ে তাওহীদের দাওয়াত দিতে শুরু করেন। যখন ফেরাউন জানতে পারল
যে তার স্ত্রী গোপনে মূসা (আঃ)-এর প্রতি ঈমান এনেছেন, তখন সে ক্রোধে উন্মত্ত
হয়ে ওঠে। যে নিজেকে ‘সর্বোচ্চ রব’ বলে দাবি করত, সে নিজের স্ত্রীকেই হত্যা
করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফেরাউন সভাসদদের জড়ো করে আছিয়া (আঃ)-এর ব্যাপারে মত
জানতে চাইলে তারা প্রথমে তাঁর গুণকীর্তন করে। কিন্তু ফেরাউন যখন জানায় যে
আছিয়া (আঃ) অন্য রবের উপাসনা করেছেন, তখন তারাই মুহূর্তে রায় দেয় তাঁকে
হত্যা করা হবে। ফেরাউনের আদেশে সৈন্যরা বিবি আছিয়া (আঃ)-কে শক্ত করে বেঁধে
প্রখর রোদের নিচে ফেলে রাখে।
জান্নাতের স্বপ্ন ও চিরমুক্তিঃ যখন ফেরাউন তাঁর পিঠে বিশাল পাথর চাপা
দেওয়ার নির্দেশ দেয়, তখনও বিবি আছিয়া (আঃ)-এর অন্তরে কোনো ভয় বা অভিযোগ
ছিল না। তিনি আকাশের দিকে দৃষ্টি তুলে একান্ত কণ্ঠে দোয়া “হে আমার
প্রতিপালক! আপনার নিকট জান্নাতে আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করুন, আমাকে
ফেরাউন ও তার কর্ম থেকে রক্ষা করুন এবং আমাকে জালিম সম্প্রদায় থেকে মুক্তি
দিন। (সূরা তাহরিম: ১১) তাঁর একমাত্র আকাঙ্ক্ষা ছিল আল্লাহর সান্নিধ্য।
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দোয়া কবুল করেন। বর্ণিত আছে: পাথর নিক্ষেপের আগেই তিনি
জান্নাতে নিজের ঘর দেখতে পান এবং হাসিমুখে প্রভুর কাছে ফিরে যান। এরপর তারা
পাথর নিক্ষেপ করেছিল এক নিথর দেহের ওপর।
হজরত আছিয়া (আঃ)-এর পরিচয়
হজরত আছিয়া (আঃ) ইসলামের ইতিহাসে ঈমান, ধৈর্য ও আত্মত্যাগের জন্য বিশেষভাবে
স্মরণীয় একজন মহীয়সী নারী। তিনি ছিলেন ফেরাউনের স্ত্রী, কিন্তু স্বামীর
কুফরি, অহংকার ও জুলুমের অনুসরণ করেননি। বরং এক আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে
সত্যের পথে অবিচল ছিলেন। পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাহরীমের ১১ নম্বর আয়াতে
আল্লাহ তাআলা ফেরাউনের স্ত্রীকে মুমিনদের জন্য আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তাঁর জীবন প্রমাণ করে, পারিবারিক পরিচয় বা পার্থিব ক্ষমতা নয়, বরং ঈমান ও
তাকওয়াই মানুষের প্রকৃত মর্যাদার ভিত্তি।
শিশু হজরত মূসা (আঃ)-কে নদী থেকে উদ্ধার করার পর আছিয়া (আঃ) তাঁকে হত্যা না
করে নিজের ও ফেরাউনের চোখের শীতলতা হিসেবে গ্রহণ করার কথা বলেন। পবিত্র
কুরআনে সূরা কাসাসের ৯ নম্বর আয়াতে তাঁর এই বক্তব্য উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহর
ইচ্ছায় তাঁর এই মমতা ও বিচক্ষণতা মূসা (আঃ)-এর জীবন রক্ষার অন্যতম কারণ
হয়েছিল। পরবর্তীতে মূসা (আঃ) আল্লাহর নবী হয়ে তাওহিদের দাওয়াত দিলে ইসলামী
ঐতিহ্য অনুযায়ী আছিয়া (আঃ) তাঁর প্রতি ঈমান আনেন।
ফেরাউন তাঁর ঈমানের বিষয় জানতে পেরে কঠোর নির্যাতন চালায় বলে বিভিন্ন
তাফসির ও ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু কোনো নির্যাতনই তাঁকে
আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। বরং তিনি দুনিয়ার
রাজপ্রাসাদ, ক্ষমতা ও সম্পদের পরিবর্তে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতকে
প্রাধান্য দেন। তাঁর বিখ্যাত দোয়া পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাহরীমের ১১ নম্বর
আয়াতে সংরক্ষিত রয়েছে। ঈমানী দৃঢ়তা, ধৈর্য, আত্মত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি
পূর্ণ আনুগত্যের কারণে হজরত আছিয়া (আঃ) আজও মুমিনদের জন্য এক উজ্জ্বল আদর্শ।
হজরত আছিয়া (আঃ)-এর পূর্বপুরুষগণ
ইসলামী ঐতিহ্য ও ইতিহাসে হজরত আছিয়া (আঃ)-কে আছিয়া বিনতে মুজাহিম নামে
উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ তাঁর পিতার নাম ছিল মুজাহিম (মুযাহিম)। বিভিন্ন
ইসলামী সূত্রে তাঁকে সম্ভ্রান্ত ও সম্মানিত পরিবারের কন্যা হিসেবে বর্ণনা করা
হয়েছে। তবে তাঁর বংশপরিচয় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও বিস্তারিত তথ্য কুরআন ও
সহিহ হাদিসে উল্লেখ নেই। তাই তাঁর পূর্বপুরুষদের সম্পূর্ণ বংশতালিকা
নিশ্চিতভাবে জানা যায় না।
বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও তাফসিরভিত্তিক বর্ণনায় হজরত আছিয়া (আঃ)-কে
মর্যাদাসম্পন্ন পরিবারের নারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ব্যক্তিত্ব,
প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও মানবিক গুণাবলির কথা ইসলামী ঐতিহ্যে বিশেষভাবে আলোচিত
হয়। পরবর্তীতে তিনি মিশরের শাসক ফেরাউনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং
রাজপ্রাসাদের জীবন লাভ করেন। তবে তাঁর পারিবারিক পরিচয় বা সামাজিক মর্যাদা
তাঁর প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্বের কারণ ছিল না; বরং তাঁর ঈমান, আল্লাহভীতি ও সত্যের
প্রতি আনুগত্যই তাঁকে ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।
রাজকীয় পরিবেশে বসবাস করেও হজরত আছিয়া (আঃ) দুনিয়ার ক্ষমতা ও সম্পদের মোহে
সত্য থেকে বিচ্যুত হননি। পরবর্তীতে হজরত মূসা (আঃ)-এর দাওয়াতের প্রতি ঈমান
এনে তিনি এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেন বলে ইসলামী ঐতিহ্যে বর্ণিত
হয়েছে। ফেরাউনের কঠোর বিরোধিতা ও নির্যাতনের মধ্যেও তিনি ঈমানের ওপর অটল
ছিলেন। তাই তাঁর বংশপরিচয়ের চেয়ে তাঁর ঈমান, ধৈর্য, আত্মত্যাগ ও আল্লাহর
প্রতি অবিচল আনুগত্যই মুসলিমদের কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর জীবন আজও
ঈমানের শক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
হযরত আছিয়া (আঃ)-এর বিদ্যাশিক্ষা ও ফেরাউনের সঙ্গে বিবাহ
হযরত আছিয়া (আঃ) ছিলেন প্রজ্ঞাবান, বিচক্ষণ ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী একজন
মর্যাদাবান নারী। তাঁর আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন সম্পর্কে কুরআন ও নির্ভরযোগ্য
হাদিসে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। তবে তাঁর জীবন থেকে তাঁর বিচক্ষণতা,
দূরদর্শিতা ও মানবিক গুণাবলির পরিচয় পাওয়া যায়। ইসলামী ঐতিহ্যে তাঁকে
সম্ভ্রান্ত পরিবারের নারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও
চরিত্র তাঁকে তৎকালীন সমাজে সম্মানিত মর্যাদা প্রদান করেছিল। পরবর্তীতে তিনি
মিশরের শাসক ফেরাউনের স্ত্রী হন এবং রাজপ্রাসাদে বসবাস শুরু করেন।
ফেরাউন ছিল অত্যন্ত ক্ষমতাশালী শাসক এবং কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী সে নিজেকে
সর্বোচ্চ কর্তৃত্বের অধিকারী বলে দাবি করত। কিন্তু হজরত আছিয়া (আঃ) তার
অন্যায়, অহংকার ও অবিশ্বাসের অনুসরণ করেননি। রাজপ্রাসাদের বিপুল সম্পদ,
ক্ষমতা ও বিলাসিতার মধ্যেও তিনি সত্য ও ন্যায়ের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। তাঁর
জীবন থেকে বোঝা যায়, পার্থিব ক্ষমতা ও সম্পদের কাছাকাছি থেকেও একজন মানুষ
নিজের ঈমান, নৈতিকতা ও সত্যনিষ্ঠা বজায় রাখতে পারেন। এটাই তাঁর চরিত্রের
অন্যতম উজ্জ্বল দিক।
শিশু মূসা (আঃ)-কে নদী থেকে উদ্ধারের পর তাঁকে হত্যা না করে লালন-পালনের জন্য
ফেরাউনকে রাজি করানোর ঘটনায় আছিয়া (আঃ)-এর মমতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় পাওয়া
যায়। কুরআনে তাঁর বক্তব্য উল্লেখ রয়েছে, “এ শিশু আমার ও তোমার চোখের
শীতলতা; একে হত্যা করো না।” পরবর্তীতে মূসা (আঃ) আল্লাহর নবী হয়ে তাওহিদের
দাওয়াত দিলে আছিয়া (আঃ) তাঁর প্রতি ঈমান আনেন বলে ইসলামী ঐতিহ্যে বর্ণিত
হয়েছে। এরপর কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি ঈমানের ওপর অটল থাকেন এবং সত্য, সাহস ও
আত্মত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
হযরত আছিয়া (আঃ) ও মূসা (আঃ)-এর ইবাদত বন্দেগী
হযরত আছিয়া (আঃ) ছিলেন ফেরাউনের স্ত্রী, কিন্তু তাঁর হৃদয় ছিল এক আল্লাহর
প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্যে পরিপূর্ণ। কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, যখন শিশু মূসা
(আঃ)-কে নদী থেকে উদ্ধার করা হয়, তখন আছিয়া (আঃ) তাঁকে হত্যা না করার জন্য
ফেরাউনকে অনুরোধ করেন। তিনি শিশুটিকে নিজের ও ফেরাউনের চোখের শীতলতা হিসেবে
গ্রহণ করার কথা বলেন। আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁর এই মমতা মূসা (আঃ)-এর জীবন রক্ষার
কারণ হয়েছিল।
পরবর্তীতে হজরত মূসা (আঃ) নবুওয়াত লাভ করে মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে
আহ্বান জানান। তাঁর তাওহিদের দাওয়াত আছিয়া (আঃ) গ্রহণ করেন এবং আল্লাহর
প্রতি ঈমান আনেন। ফেরাউনের রাজপ্রাসাদে বসবাস করেও তিনি তার কুফরি ও অহংকারকে
অনুসরণ করেননি। বরং আল্লাহর প্রতি গভীর বিশ্বাস ও আনুগত্য বজায় রাখেন। তাঁর
দোয়া, ধৈর্য ও ইবাদত প্রমাণ করে যে প্রতিকূল পরিবেশেও একজন মুমিন আল্লাহর
সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখতে পারেন।
হযরত আছিয়া (আঃ) উপলব্ধি করেছিলেন যে দুনিয়ার রাজত্ব, ক্ষমতা ও সম্পদের
তুলনায় আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং আখিরাতের সফলতা অনেক বেশি মূল্যবান। তাই
ফেরাউনের ভয় ও হুমকিকে উপেক্ষা করে তিনি সত্যের পথে অটল ছিলেন। মূসা (আঃ)-এর
তাওহিদের দাওয়াতের প্রতি তাঁর সমর্থন এবং এক আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ছিল তাঁর
ঈমানের দৃঢ়তার প্রমাণ। তাঁর জীবন মুসলিমদের জন্য ঈমান, ইবাদত, ধৈর্য, ত্যাগ
ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
হযরত আছিয়া (আঃ)-এর উপর নির্যাতন ও কারাবাস
হযরত আছিয়া (আঃ) যখন হজরত মূসা (আঃ)-এর দাওয়াত গ্রহণ করে এক আল্লাহর প্রতি
ঈমান আনেন, তখন তাঁর জীবনে কঠিন পরীক্ষা শুরু হয়। তিনি ফেরাউনের রাজপ্রাসাদে
বসবাস করলেও তার কুফরি ও অহংকারকে কখনো মেনে নেননি। একসময় ফেরাউন জানতে পারে
যে তাঁর স্ত্রী এক আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছেন। এতে সে প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হয়ে
আছিয়া (আঃ)-কে ঈমান ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তিনি সত্যের পথ থেকে
সরে যেতে অস্বীকার করেন এবং আল্লাহর ওপর অবিচল থাকেন।
ইসলামী ঐতিহ্য ও তাফসিরভিত্তিক বিভিন্ন বর্ণনায় হজরত আছিয়া (আঃ)-এর ওপর
ফেরাউনের নির্মম নির্যাতনের কথা উল্লেখ রয়েছে। তাঁকে ঈমান থেকে ফিরিয়ে আনার
জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচার করা হয় এবং বন্দি করে কঠোর শাস্তি
দেওয়া হয়। কিছু বর্ণনায় এসেছে, তাঁকে হাত-পা বেঁধে প্রখর রোদের মধ্যে ফেলে
রাখা হয়েছিল। তবে এসব বিস্তারিত বর্ণনা কুরআনে সরাসরি উল্লেখ নেই। নিশ্চিত
বিষয় হলো, প্রচণ্ড নির্যাতনের মধ্যেও তিনি ঈমান থেকে বিচ্যুত হননি এবং
আল্লাহর প্রতি তাঁর বিশ্বাস অটুট রেখেছিলেন।
নির্যাতনের চরম মুহূর্তেও হজরত আছিয়া (আঃ) দুনিয়ার ক্ষমতা, রাজকীয় জীবন
কিংবা সম্পদের জন্য প্রার্থনা করেননি। বরং তিনি আল্লাহর কাছে জান্নাতে একটি
ঘর এবং ফেরাউন ও তার অত্যাচার থেকে মুক্তি চেয়েছিলেন। পবিত্র কুরআনে তাঁর এই
মহান দোয়া সূরা আত-তাহরীমের ১১ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ
তাআলা তাঁকে মুমিনদের জন্য আদর্শ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর ধৈর্য, ত্যাগ ও
ঈমানী দৃঢ়তা সত্যের পথে অবিচল থাকার অনন্য শিক্ষা দেয়।
হযরত আছিয়া (আঃ)-যে দোয়া করেছিলেন
ফেরাউনের কঠোর নির্যাতন ও অত্যাচারের মুখেও হযরত আছিয়া (আঃ) তাঁর ঈমান থেকে
এক চুলও বিচ্যুত হননি। পৃথিবীর রাজপ্রাসাদ, ক্ষমতা ও বিলাসিতা তাঁর কাছে
মূল্যহীন হয়ে গিয়েছিল। তিনি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং আখিরাতের
মুক্তিই কামনা করেছিলেন। সেই কঠিন মুহূর্তে তিনি আল্লাহর দরবারে এক
হৃদয়স্পর্শী দোয়া করেন, যা পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাহরীমের ১১ নম্বর
আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দোয়াটি হলো- হে আমার প্রতিপালক! আপনার নিকট জান্নাতে আমার জন্য একটি ঘর
নির্মাণ করুন এবং আমাকে ফেরাউন ও তার কর্ম থেকে মুক্তি দিন, আর আমাকে জালিম
সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করুন। (সূরা আত-তাহরীম, আয়াত: ১১)
এই দোয়ার মাধ্যমে হযরত আছিয়া (আঃ) প্রমাণ করেছেন যে প্রকৃত মুমিনের লক্ষ্য
দুনিয়ার ভোগ-বিলাস নয়, বরং আল্লাহর নৈকট্য ও জান্নাত লাভ। তিনি প্রথমে
জান্নাতের ঘর নয়, বরং “আপনার নিকট” শব্দের মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য কামনা
করেছিলেন, যা তাঁর গভীর ঈমান ও আল্লাহপ্রেমের উজ্জ্বল নিদর্শন। তাই তাঁর এই
দোয়া যুগে যুগে মজলুম, নির্যাতিত ও ঈমানদার মানুষের জন্য ধৈর্য, ত্যাগ এবং
আল্লাহর ওপর ভরসার এক অনন্য শিক্ষা হয়ে আছে।
হযরত আছিয়া (আঃ)-এর প্রার্থনা
হযরত আছিয়া (আঃ)-এর প্রার্থনার মূল বিষয় ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি, তাঁর নৈকট্য লাভ এবং জান্নাতে চিরস্থায়ী আবাস অর্জন। তিনি ছিলেন মিশরের রানী এবং রাজপ্রাসাদের অগণিত ধন-সম্পদ, ক্ষমতা ও বিলাসিতার অধিকারী। কিন্তু ঈমান গ্রহণের পর তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে দুনিয়ার সব ভোগ-বিলাস ক্ষণস্থায়ী, আর আখিরাতের সফলতাই প্রকৃত সফলতা। তাই তিনি পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের পরিবর্তে আল্লাহর সান্নিধ্য ও জান্নাত কামনা করেছিলেন।
ফেরাউনের কঠোর নির্যাতনের মধ্যেও তাঁর হৃদয় আল্লাহর স্মরণে অটল ছিল। তিনি দোয়া করেছিলেন, হে আমার প্রতিপালক! আপনার নিকট জান্নাতে আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করুন। এই প্রার্থনায় তাঁর গভীর ঈমান, আল্লাহর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং আখিরাতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ পেয়েছে। তিনি জান্নাতের ঘরের চেয়েও আগে আল্লাহর নৈকট্য কামনা করেছিলেন, যা তাঁর উচ্চ মর্যাদা ও আধ্যাত্মিকতার পরিচয় বহন করে।
আল্লাহ তাআলা হজরত আছিয়া (আঃ)-এর এই মহান দোয়া পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁকে মুমিনদের জন্য আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর প্রার্থনা আমাদের শেখায় যে প্রকৃত মুমিনের জীবনের প্রধান লক্ষ্য দুনিয়ার সাময়িক সুখ, সম্পদ বা ক্ষমতা অর্জন নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতের চিরস্থায়ী সফলতা লাভ করা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা, ধৈর্য ধারণ করা এবং তাঁর নৈকট্য কামনা করাই একজন মুমিনের জন্য সর্বোত্তম পথ। হজরত আছিয়া (আঃ)-এর প্রার্থনা তাই আজও ঈমানদারদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
হযরত আছিয়া (আঃ)-এর ধর্মোপদেশ
হযরত আছিয়া (আঃ)-এর জীবন মুসলমানদের জন্য এক মহান শিক্ষার উৎস। যদিও তাঁর
কোনো আনুষ্ঠানিক ধর্মোপদেশ সংরক্ষিত নেই, তবে তাঁর জীবনাদর্শ ও কর্মের
মাধ্যমে তিনি মানুষকে আল্লাহর একত্ববাদ, ঈমানের দৃঢ়তা, ধৈর্য এবং সত্যের পথে
অবিচল থাকার শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে পারিবারিক, সামাজিক
কিংবা রাজনৈতিক চাপ সত্যের অনুসরণ থেকে একজন মুমিনকে বিরত রাখতে পারে না।
ফেরাউনের মতো অত্যাচারী শাসকের প্রাসাদে বসবাস করেও তিনি আল্লাহর প্রতি
বিশ্বাস অটুট রেখেছিলেন। দুনিয়ার ক্ষমতা, সম্মান ও বিলাসিতার পরিবর্তে তিনি
আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতকে বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড়
শিক্ষা হলো সত্যের পথে চলতে হলে ত্যাগ স্বীকার করতে হয় এবং আল্লাহর ওপর
পূর্ণ ভরসা রাখতে হয়। একই সঙ্গে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর পূর্ণ
ভরসা রেখে ধৈর্য ধারণ করাও একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ।
হযরত আছিয়া (আঃ)-এর জীবন থেকে আরও শিক্ষা পাওয়া যায় যে মানুষের প্রকৃত
মর্যাদা তার পরিবার, সম্পদ বা সামাজিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে না, বরং ঈমান
ও নেক আমলই তার মর্যাদার মূল ভিত্তি। ফেরাউনের স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি
তার কুফরি ও জুলুমের অনুসারী হননি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা তাঁকে
মুমিনদের জন্য আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তাই তাঁর জীবন আমাদের সাহস,
ধৈর্য, ন্যায়পরায়ণতা, আত্মত্যাগ এবং আল্লাহর প্রতি অটল আনুগত্যের শিক্ষা
দেয়।
আজও হযরত আছিয়া (আঃ)-এর জীবন মুসলিম নারী-পুরুষের জন্য ঈমানের শক্তি ও
আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর জীবন বিশেষভাবে শেখায়
যে সত্যের পথে থাকার জন্য সব সময় অনুকূল পরিবেশের প্রয়োজন হয় না। বরং
প্রতিকূলতার মধ্যেও একজন মুমিন নিজের বিশ্বাসকে দৃঢ় রাখতে পারেন। দুনিয়ার
ক্ষমতা ও সম্পদের মোহ ত্যাগ করে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ লক্ষ্য হিসেবে
গ্রহণ করা তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তাঁর ধৈর্য, আত্মত্যাগ ও
ঈমানী দৃঢ়তা আমাদের জীবনে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার অনুপ্রেরণা জোগায়।
হযরত আছিয়া (আঃ)-এর জান্নাত লাভ
হযরত আছিয়া (আঃ) ইসলামের ইতিহাসে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহীয়সী নারীদের
অন্যতম। ফেরাউনের মতো অত্যাচারী শাসকের স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি আল্লাহর
প্রতি ঈমান অটুট রেখেছিলেন এবং দুনিয়ার রাজত্ব, সম্পদ ও ভোগ-বিলাসের
পরিবর্তে আখিরাতের চিরস্থায়ী সফলতাকে বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর এই অসাধারণ ঈমান
ও ত্যাগের কারণে আল্লাহ তাআলা তাঁকে বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করেন।
পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাহরীমের ১১ নম্বর আয়াতে হজরত আছিয়া (আঃ)-এর সেই
মহান দোয়া উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি প্রার্থনা করেছিলেন, হে আমার প্রতিপালক!
আপনার নিকট জান্নাতে আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করুন। এই দোয়ার মাধ্যমে তাঁর
আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা, আখিরাতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস এবং জান্নাত লাভের
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি দুনিয়ার রাজপ্রাসাদ, সম্পদ ও ক্ষমতার
পরিবর্তে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতকে বেছে নিয়েছিলেন। একই আয়াতে আল্লাহ
তাআলা তাঁকে মুমিনদের জন্য আদর্শ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-ও হজরত আছিয়া (আঃ)-এর মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি
জান্নাতের শ্রেষ্ঠ নারীদের একজন। বিভিন্ন সহিহ হাদিসে হজরত খাদিজা (রা.),
হজরত ফাতিমা (রা.), হজরত মারইয়াম (আঃ)-এর সঙ্গে হজরত আছিয়া (আঃ)-এর নামও
জান্নাতের সেরা নারীদের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাই হজরত আছিয়া (আঃ)-এর
জীবন আমাদের শিক্ষা দেয় যে, ঈমান, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস একজন
মানুষকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদায় পৌঁছে দিতে পারে।
হযরত আছিয়া (আঃ)-এর মৃত্যু
হযরত আছিয়া (আঃ)-এর মৃত্যু ইসলামের ইতিহাসে ঈমান, ধৈর্য ও আত্মত্যাগের এক
অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি ফেরাউনের স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও এক আল্লাহর প্রতি ঈমান
এনেছিলেন এবং হজরত মূসা (আঃ)-এর দাওয়াত গ্রহণ করেছিলেন। যখন ফেরাউন তাঁর
ঈমানের বিষয়টি জানতে পারে, তখন তাকে ইসলাম ত্যাগ করার জন্য ভয়াবহ
নির্যাতনের মুখোমুখি করে। কিন্তু আছিয়া (আঃ) কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর প্রতি
বিশ্বাস থেকে সরে আসেননি।
সহিহ কুরআন ও হাদিসে তাঁর মৃত্যুর পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ না থাকলেও,
তাফসির ও ইসলামী ঐতিহ্যের বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে যে ফেরাউন তাঁকে কঠোর
শাস্তি দেয়। তাঁর হাত-পা বেঁধে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছিল। সেই
সময় তিনি আল্লাহর কাছে জান্নাতে একটি ঘরের জন্য দোয়া করেন। আল্লাহ তাআলা
তাঁকে জান্নাতে তাঁর মর্যাদা প্রদর্শন করেন এবং তিনি সেই দৃশ্য দেখে
প্রশান্তি লাভ করেন। এরপর তিনি শাহাদাতবরণ করেন বলে বর্ণিত হয়েছে।
হযরত আছিয়া (আঃ)-এর মৃত্যু প্রমাণ করে যে সত্যিকারের ঈমানদার ব্যক্তি
দুনিয়ার ক্ষমতা, সম্পদ কিংবা জীবনের মায়ার চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে বেশি
গুরুত্ব দেন। তিনি রাজপ্রাসাদের বিলাসিতা ত্যাগ করে আখিরাতের চিরস্থায়ী
সফলতাকে বেছে নিয়েছিলেন। এ কারণে তিনি ইসলামে জান্নাতের শ্রেষ্ঠ নারীদের
একজন হিসেবে সম্মানিত এবং কিয়ামত পর্যন্ত মুমিনদের জন্য ঈমানের উজ্জ্বল
আদর্শ হয়ে থাকবেন।
হযরত আছিয়া (আঃ) মুসলিম নারীদের জন্য আদর্শ
হযরত আছিয়া (আঃ) মুসলিম নারীদের জন্য ঈমান, ধৈর্য, সাহস, আত্মত্যাগ এবং
আল্লাহর প্রতি অবিচল আনুগত্যের অনন্য আদর্শ। তিনি এমন এক পরিবেশে জীবনযাপন
করেছিলেন, যেখানে তাঁর স্বামী ফেরাউন নিজেকে উপাস্য দাবি করত। তবুও তিনি
সত্যকে গ্রহণ করেন এবং এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনেন। কুরআনে আল্লাহ তাআলা
তাঁকে সকল বিশ্বাসীর জন্য আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা তাঁর মর্যাদা ও
ঈমানী দৃঢ়তার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি।
হযরত আছিয়া (আঃ)-এর জীবন থেকে মুসলিম নারীরা শিখতে পারেন যে পারিপার্শ্বিক
প্রতিকূলতা, পারিবারিক চাপ কিংবা দুনিয়ার লোভ একজন মুমিনকে সত্যের পথ থেকে
বিচ্যুত করতে পারে না। তিনি রাজপ্রাসাদের অঢেল সম্পদ ও ক্ষমতার চেয়ে আল্লাহর
সন্তুষ্টি এবং জান্নাতকে অধিক মূল্যবান মনে করেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত দোয়া “হে
আমার প্রতিপালক! আপনার নিকট জান্নাতে আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করুন”
আল্লাহর প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও আখিরাতমুখী চিন্তার পরিচয় বহন করে।
এছাড়া তিনি নারীর আত্মমর্যাদা, নৈতিকতা এবং স্বাধীন ঈমানী পরিচয়েরও উজ্জ্বল
দৃষ্টান্ত। তিনি এমন এক পরিবেশে জীবনযাপন করেও নিজের বিশ্বাস ও আদর্শ
থেকে বিচ্যুত হননি, যেখানে তাঁর স্বামী ফেরাউন ছিল ক্ষমতাশালী ও অত্যাচারী
শাসক। তাঁর জীবন প্রমাণ করে যে একজন নারী নিজের বিশ্বাস ও আদর্শে দৃঢ় থেকে
সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হতে পারেন। তাই হজরত আছিয়া (আঃ) শুধু
মুসলিম নারীদের জন্য নয়, বরং সকল মুমিন নারী-পুরুষের জন্য ধৈর্য, সাহস ও
তাওহিদের এক চিরন্তন আদর্শ।
শেষকথাঃ হযরত আছিয়া (আঃ) এর জীবনী
হযরত আছিয়া (আঃ)-এর জীবনী আমাদের ঈমান, ধৈর্য, আত্মত্যাগ এবং আল্লাহর প্রতি
অবিচল বিশ্বাসের এক অনন্য শিক্ষা দেয়। তিনি এমন এক পরিবেশে জীবনযাপন
করেছিলেন, যেখানে কুফর, অহংকার ও জুলুম ছিল রাষ্ট্রের নীতি। তবুও তিনি সত্যকে
গ্রহণ করেছিলেন এবং পৃথিবীর রাজকীয় ক্ষমতা, সম্পদ ও সম্মানের পরিবর্তে
আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতের সফলতাকে বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর জীবন প্রমাণ করে
যে একজন মানুষের প্রকৃত মর্যাদা তার পারিবারিক পরিচয় বা সামাজিক অবস্থানে
নয়, বরং তার ঈমান ও তাকওয়ার ওপর নির্ভর করে।
হযরত আছিয়া (আঃ)-এর জীবনী থেকে আমরা শিখি যে সত্যের পথে চলতে হলে অনেক সময়
কঠিন পরীক্ষা, ত্যাগ এবং নির্যাতনের সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু একজন মুমিন যদি
আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখে, তবে কোনো শক্তিই তাকে সত্য থেকে বিচ্যুত করতে
পারে না। তাঁর বিখ্যাত দোয়া“হে আমার প্রতিপালক! আপনার নিকট জান্নাতে আমার
জন্য একটি ঘর নির্মাণ করুন” শুধু একটি প্রার্থনা নয়; এটি দুনিয়ার মোহ ত্যাগ
করে আখিরাতকে প্রাধান্য দেওয়ার এক চিরন্তন শিক্ষা।
আমার প্রত্যাশা, এই জীবনী পাঠকদের মধ্যে ঈমানকে আরও দৃঢ় করবে, ধৈর্য ও
আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি করবে এবং বিশেষ করে মুসলিম নারীদের জন্য
হযরত আছিয়া (আঃ)-এর জীবনকে অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে তুলে ধরবে। আশা করছি,
ফেরাউনের স্ত্রী হযরত আছিয়া (আঃ) এর জীবনী সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আল্লাহ
তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর মতো সত্যের ওপর অটল থাকার তাওফিক দান করুন। আমীন।
-%E0%A6%8F%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%80.webp)
বিডি টেকল্যান্ডের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url