রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম চাকরি
বর্তমান সময়ে কমবেশি অনেকেই রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম চাকরি করার কথা চিন্তা করে
থাকেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী এবং অতিরিক্ত আয়ের সন্ধানে থাকা ব্যক্তিদের কাছে এই
চাকরিগুলো বেশ জনপ্রিয়। রেস্টুরেন্টে পার্টটাইম চাকরি করে পড়াশোনার পাশাপাশি বা
অবসর সময়ে ভালো পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।
রেস্টুরেন্টে সাধারণত ওয়েটার, ক্যাশিয়ার, কিচেন সহকারী, ডেলিভারি কর্মী কিংবা
কাস্টমার সার্ভিস সহকারী হিসেবে কাজের সুযোগ থাকে। এসব কাজের জন্য অধিকাংশ
ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না। তবে ভদ্র আচরণ,
সময়ানুবর্তিতা এবং কাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা থাকতে হয়।
পোস্ট সূচিপত্রঃ রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম চাকরি
- রেস্টুরেন্ট পার্ট টাইম জব কি?
- রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম চাকরি
- কেন রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম কাজ করবেন?
- রেস্টুরেন্টে কি ধরনের কাজ রয়েছে?
- রেস্টুরেন্টে পার্টটাইম চাকরির যোগ্যতা
- রেস্টুরেন্ট জব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
- কিভাবে রেস্টুরেন্টে চাকরির আবেদন করবেন?
- রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম জবের বেতন
- কারা রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম জব করতে পারবেন?
- রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম জব পাওয়ার উপায়
- শেষকথাঃ রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম চাকরি
রেস্টুরেন্ট পার্ট টাইম জব কি?
রেস্টুরেন্ট পার্ট টাইম জব হলো এমন একটি চাকরি, যেখানে পূর্ণকালীন চাকরির
পরিবর্তে প্রতিদিন বা সপ্তাহের নির্দিষ্ট কিছু সময় কাজ করতে হয়। সাধারণত
শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী এবং অতিরিক্ত আয় করতে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য এই
ধরনের চাকরি বেশ উপযোগী। রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম কর্মীরা ওয়েটার, ক্যাশিয়ার,
হোস্ট, কিচেন সহকারী, ডেলিভারি স্টাফ বা কাস্টমার সার্ভিস প্রতিনিধি হিসেবে কাজ
করতে পারেন। কাজের সময়, দায়িত্ব ও বেতন রেস্টুরেন্টের ধরন এবং পদের ওপর নির্ভর
করে।
ওয়েটারের প্রধান কাজ হলো গ্রাহকদের স্বাগত জানানো, অর্ডার নেওয়া, খাবার ও
পানীয় পরিবেশন করা এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে,
ক্যাশিয়ারের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বিল তৈরি করা, গ্রাহকের কাছ থেকে পেমেন্ট
গ্রহণ করা এবং দৈনন্দিন লেনদেনের হিসাব সংরক্ষণ করা। এছাড়া রেস্টুরেন্টের কাজের
ধরন অনুযায়ী পার্ট টাইম কর্মীদের টেবিল পরিষ্কার রাখা, খাবার পরিবেশনে সহায়তা
করা, কিচেনে সহযোগিতা করা।
বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রেস্টুরেন্ট পার্ট টাইম জব বেশ জনপ্রিয়। কারণ এই
ধরনের চাকরিতে পড়াশোনার পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে
গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার মাধ্যমে যোগাযোগ দক্ষতা, কাস্টমার সার্ভিস, সময়
ব্যবস্থাপনা এবং দলগতভাবে কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব। ভবিষ্যতে
রেস্টুরেন্ট, হসপিটালিটি বা অন্যান্য সেবা খাতে ক্যারিয়ার গড়তেও এই অভিজ্ঞতা
কাজে লাগতে পারে।
রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম চাকরি
বর্তমানে শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম চাকরির জনপ্রিয়তা
বাড়ছে। পড়াশোনা বা অন্যান্য কাজের পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ থাকায় অনেকেই
এই ধরনের চাকরিকে বেছে নিচ্ছেন। রেস্টুরেন্ট পার্ট টাইম জবের অন্যতম সুবিধা হলো
নমনীয় কাজের সময় বা ফ্লেক্সিবল শিফট। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্লাস, পড়াশোনা
এবং ব্যক্তিগত কাজের সময়সূচির সঙ্গে কাজের সময় সহজেই সমন্বয় করতে পারেন।
রেস্টুরেন্টে পার্টটাইম চাকরি সাধারণত শিফটভিত্তিক হয়ে থাকে। অধিকাংশ
রেস্টুরেন্টে সকাল, বিকেল এবং সন্ধ্যা এই তিনটি শিফটে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়।
একজন কর্মী তার সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো একটি শিফটে কাজ করতে পারেন। ফলে পড়াশোনার
ক্ষতি না করেই নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস শেষ করে
সন্ধ্যার শিফটে কাজ করেন, আবার কেউ কেউ ছুটির দিনে অতিরিক্ত সময় কাজ করে থাকেন।
বাংলাদেশের অনেক ছোট ও মাঝারি রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম কর্মীরা মাসে প্রায় ৫,০০০
থেকে ১০,০০০ টাকা বা তারও বেশি আয় করতে পারেন। তবে বেতন কাজের সময়, পদের
দায়িত্ব, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং রেস্টুরেন্টের অবস্থান ও প্রতিষ্ঠানের ধরন
অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি অতিরিক্ত আয় করতে চান এমন
শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য রেস্টুরেন্ট পার্ট টাইম জব একটি ভালো সুযোগ হতে পারে।
কেন রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম কাজ করবেন?
রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম কাজ শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য আয়ের পাশাপাশি বাস্তব
কর্মঅভিজ্ঞতা অর্জনের ভালো সুযোগ। অনেক রেস্টুরেন্টে ফ্লেক্সিবল শিফটে কাজ করার
সুবিধা থাকায় পড়াশোনা বা অন্য কাজের সঙ্গে সময় সমন্বয় করা সহজ হয়। তুলনামূলক
কম শিক্ষাগত যোগ্যতায় বিভিন্ন পদে আবেদন করা যায়। ফলে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের
প্রস্তুতির পাশাপাশি নিয়মিত আয়ের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে রেস্টুরেন্ট পার্ট
টাইম জব বেছে নেওয়া যায়।
১. সহজে চাকরি পাওয়ার সুযোগঃ বাংলাদেশে রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে ও ফাস্টফুড
শপের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন পদে কর্মীর চাহিদাও তৈরি হচ্ছে। তাই
অভিজ্ঞতা না থাকলেও ওয়েটার, কিচেন সহকারী, ক্যাশিয়ার বা কাস্টমার সার্ভিসের মতো
পদে পার্ট টাইম চাকরির সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। ভদ্র আচরণ, কাজ শেখার আগ্রহ ও
দায়িত্বশীলতা থাকলে নতুনদের জন্যও এই খাতে প্রবেশ করা তুলনামূলক সহজ।
২. নিজের সুবিধামতো শিফটে কাজঃ রেস্টুরেন্ট পার্ট টাইম জবের অন্যতম সুবিধা
হলো শিফট অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ। রেস্টুরেন্টের সময়সূচি অনুযায়ী সকাল, দুপুর,
বিকেল বা সন্ধ্যার শিফট বেছে নেওয়া যেতে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন কয়েক
ঘণ্টা কাজের ব্যবস্থা থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্লাস, পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত কাজের
সঙ্গে চাকরির সময় সহজেই মিলিয়ে নিতে পারেন। ফলে ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যেও পার্ট
টাইম কাজ করে নিয়মিত আয় করা সম্ভব হয়।
৩. কম শিক্ষাগত যোগ্যতায় আবেদনঃ বেশিরভাগ রেস্টুরেন্টের এন্ট্রি-লেভেল
পার্ট টাইম পদের জন্য উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা সবসময় প্রয়োজন হয় না। অনেক
ক্ষেত্রে এসএসসি বা এইচএসসি পাস প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারেন। তবে পদভেদে
শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য শর্ত আলাদা হতে পারে। ভদ্র ব্যবহার,
সময়ানুবর্তিতা ও গ্রাহকদের ভালো সেবা দেওয়ার মানসিকতাও নিয়োগের ক্ষেত্রে
গুরুত্বপূর্ণ।
৪. বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত আয়ের সুযোগঃ রেস্টুরেন্টে নির্ধারিত বেতনের
পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠানে টিপস বা সার্ভিস চার্জ থেকে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ
থাকতে পারে। বিশেষ করে ওয়েটার বা কাস্টমার সার্ভিসের মতো পদে গ্রাহকদের সঙ্গে
ভালো আচরণ ও মানসম্মত সেবা দিতে পারলে টিপস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে
অতিরিক্ত আয়ের পরিমাণ নির্দিষ্ট নয়; এটি রেস্টুরেন্টের নীতিমালা, কাজের ধরন,
শিফট এবং গ্রাহকের ওপর নির্ভর করে।
৫. বাস্তব কাজের দক্ষতা অর্জনঃ রেস্টুরেন্টে পার্টটাইম চাকরি করার মাধ্যমে
শুধু আয় নয়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মদক্ষতাও অর্জন করা যায়। গ্রাহকের সঙ্গে
ভদ্রভাবে যোগাযোগ, অর্ডার নেওয়া ও পরিচালনা, সময়মতো কাজ সম্পন্ন করা, তাৎক্ষণিক
সমস্যা সমাধান এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করার বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। এসব
দক্ষতা ভবিষ্যতে হসপিটালিটি, কাস্টমার সার্ভিস, রিটেইলসহ বিভিন্ন পেশায় চাকরি
করার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
রেস্টুরেন্টে কী ধরনের কাজ রয়েছে?
রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম জব বলতে শুধু খাবার পরিবেশন করাকেই বোঝায় না। একটি
রেস্টুরেন্ট পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। আপনার
দক্ষতা ও আগ্রহ অনুযায়ী এসব পদের যেকোনো একটিতে কাজ করতে পারেন। তবে ভদ্র আচরণ,
যোগাযোগ দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা এবং সময়মতো কাজ সম্পন্ন করার মানসিকতা থাকলে
রেস্টুরেন্টে পার্টটাইম চাকরিতে ভালো করার সুযোগ রয়েছে। রেস্টুরেন্টে কী ধরনের
কাজ রয়েছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো-
১. ওয়েটার/ওয়েট্রেসঃ রেস্টুরেন্টে ওয়েটার বা ওয়েট্রেসের প্রধান কাজ
হলো গ্রাহকদের স্বাগত জানানো, টেবিলে বসানো এবং খাবার ও পানীয়ের অর্ডার নেওয়া।
অর্ডার সঠিকভাবে কিচেনে পৌঁছে দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে খাবার পরিবেশন করতে
হয়। এছাড়া গ্রাহকের অতিরিক্ত চাহিদা, খাবার সম্পর্কিত প্রশ্ন এবং অন্যান্য সেবা
নিশ্চিত করাও এই পদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কাজের সময় টেবিল পরিষ্কার রাখা এবং
গ্রাহকদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
২. কিচেন হেল্পারঃ কিচেন হেল্পার রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরের দৈনন্দিন কাজে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণত সবজি, মাংস বা অন্যান্য রান্নার উপকরণ
প্রস্তুত করা, খাবার সাজানো এবং রান্নার কাজে শেফ বা কুককে সহযোগিতা করা তার
প্রধান দায়িত্ব। পাশাপাশি রান্নাঘরের সরঞ্জাম ও কাজের স্থান পরিষ্কার রাখা এবং
প্রয়োজনীয় উপকরণ যথাস্থানে রাখতেও সহায়তা করতে হয়। রান্নার অভিজ্ঞতা না
থাকলেও কাজ শিখে ধীরে ধীরে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থাকে।
৩. ক্যাশিয়ারঃ রেস্টুরেন্টের ক্যাশিয়ারের প্রধান দায়িত্ব হলো গ্রাহকের
অর্ডার অনুযায়ী বিল তৈরি করা এবং পেমেন্ট গ্রহণ করা। নগদ টাকা, কার্ড বা ডিজিটাল
পেমেন্টের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করতে হয়। পাশাপাশি দৈনিক বিক্রির হিসাব
সংরক্ষণ, বিল যাচাই এবং ক্যাশ কাউন্টার সঠিকভাবে পরিচালনা করাও ক্যাশিয়ারের কাজ।
কিছু রেস্টুরেন্টে ক্যাশিয়ারকে অনলাইন অর্ডার গ্রহণ ও অর্ডারের তথ্য কিচেনে
পাঠানোর দায়িত্বও দেওয়া হয়। এ কাজে হিসাবের দক্ষতা ও সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ।
৪. ক্লিনিং স্টাফঃ রেস্টুরেন্টের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর
পরিবেশ বজায় রাখতে ক্লিনিং স্টাফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের কাজের
মধ্যে টেবিল, চেয়ার, ফ্লোর, জানালা এবং অন্যান্য ব্যবহারযোগ্য স্থান পরিষ্কার
রাখা অন্তর্ভুক্ত। গ্রাহক চলে যাওয়ার পর টেবিল দ্রুত পরিষ্কার করে নতুন গ্রাহকের
জন্য প্রস্তুত করাও এই পদের অন্যতম দায়িত্ব। এছাড়া ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা
এবং রেস্টুরেন্টের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কাজ করতে হয়। স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে
সচেতনতা এই চাকরিতে গুরুত্বপূর্ণ।
৫. ডেলিভারি কর্মীঃ ডেলিভারি কর্মীর প্রধান কাজ হলো রেস্টুরেন্ট থেকে
অর্ডার করা খাবার গ্রাহকের নির্ধারিত ঠিকানায় নিরাপদে ও সময়মতো পৌঁছে দেওয়া।
অর্ডার সংগ্রহের আগে খাবারের প্যাকেট, ঠিকানা এবং অর্ডারের তথ্য যাচাই করতে হয়।
গ্রাহকের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী পেমেন্ট গ্রহণ বা
ডিজিটাল অর্ডার সম্পন্ন করার কাজও থাকতে পারে। সময়ানুবর্তিতা, ভালো ব্যবহার এবং
এলাকার রাস্তা সম্পর্কে ধারণা থাকলে এই কাজে সুবিধা হয়।
৬. রিসেপশন বা গেস্ট হ্যান্ডলিংঃ রেস্টুরেন্টের রিসেপশন বা গেস্ট
হ্যান্ডলিং কর্মীরা গ্রাহকদের প্রথমে স্বাগত জানান এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান
করেন। তাদের কাজের মধ্যে অতিথিদের টেবিলে বসানো, টেবিল রিজার্ভেশন পরিচালনা,
অপেক্ষমাণ গ্রাহকদের তথ্য দেওয়া এবং রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে
জানানো রয়েছে। ব্যস্ত সময়ে গ্রাহকদের সঠিকভাবে পরিচালনা করা এবং তাদের সমস্যা
দ্রুত সমাধানে সহযোগিতা করাও এই পদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ভদ্র আচরণ, যোগাযোগ
দক্ষতা ও ধৈর্য এই কাজে বিশেষভাবে প্রয়োজন।
রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম চাকরির যোগ্যতা
রেস্টুরেন্টে পার্টটাইম চাকরির জন্য সাধারণত খুব বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পূর্ব
অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না। তবে পদভেদে কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও ব্যক্তিগত
দক্ষতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রাহকদের সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলা, সময়মতো
কাজে উপস্থিত হওয়া, ব্যস্ত পরিবেশে দায়িত্ব পালন করা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে
সমন্বয় করে কাজ করার আগ্রহকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম
চাকরির জন্য যেসব যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা ভালো, সেগুলো হলোঃ
১. ন্যূনতম এসএসসি বা এইচএসসি পাসঃ অনেক রেস্টুরেন্টে ওয়েটার, কিচেন
হেল্পার, ক্যাশিয়ার বা অন্যান্য এন্ট্রি-লেভেল পার্ট টাইম পদের জন্য এসএসসি বা
এইচএসসি পাস প্রার্থীদের আবেদন করার সুযোগ থাকে। তবে এটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ
নীতিমালা ও পদের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষাগত
যোগ্যতার চেয়ে কাজ শেখার আগ্রহ ও ব্যবহারিক দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
২. ভদ্র ও মার্জিতভাবে কথা বলার দক্ষতাঃ রেস্টুরেন্টে কাজ করার সময়
প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের গ্রাহকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে হয়। তাই স্পষ্ট,
ভদ্র ও মার্জিতভাবে কথা বলার দক্ষতা একজন কর্মীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রাহকের অর্ডার মনোযোগ দিয়ে শোনা, প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে জানানো এবং খাবার
বা সেবা সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন থাকলে ধৈর্যের সঙ্গে উত্তর দিতে হয়। কোনো গ্রাহক
অসন্তুষ্ট হলে তর্ক না করে শান্তভাবে তার সমস্যা বোঝার চেষ্টা করাও জরুরি।
৩. গ্রাহকদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার মানসিকতাঃ রেস্টুরেন্টে পার্টটাইম
চাকরির ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সঙ্গে ভালো আচরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন
কর্মীকে হাসিমুখে গ্রাহকদের স্বাগত জানানো, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করা
এবং অর্ডার বা সেবা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর ভদ্রভাবে দিতে হয়। কোনো গ্রাহক
অভিযোগ বা অসন্তোষ প্রকাশ করলে বিরক্ত না হয়ে ধৈর্যের সঙ্গে তার কথা শুনে
সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা উচিত।
৪. সময়ানুবর্তিতাঃ রেস্টুরেন্টে পার্টটাইম চাকরিতে নির্ধারিত শিফট
অনুযায়ী সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দুপুর
ও রাতের ব্যস্ত সময়ে একজন কর্মী দেরি করলে অন্য কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ
পড়তে পারে এবং গ্রাহকসেবায়ও সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই নির্ধারিত সময়ের আগে বা
সময়মতো কাজে উপস্থিত হওয়া, শিফট শেষ হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা এবং
প্রয়োজনে আগে থেকে ছুটির বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।
৫. দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতাঃ রেস্টুরেন্টের দৈনন্দিন কার্যক্রম সফলভাবে
পরিচালনার জন্য ওয়েটার, ক্যাশিয়ার, কিচেন স্টাফ, ক্লিনিং কর্মী এবং
ম্যানেজমেন্টকে একসঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হয়। তাই নিজের দায়িত্ব ঠিকভাবে
পালন করার পাশাপাশি প্রয়োজনে সহকর্মীদের সহযোগিতা করা এবং কাজের চাপ ভাগ করে
নেওয়ার মানসিকতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, ব্যস্ত সময়ে ওয়েটারকে অর্ডার
পরিবেশনে সহায়তা করা বা কিচেন স্টাফের সঙ্গে অর্ডারের তথ্য সঠিকভাবে সমন্বয়
করা।
৬. চাপের মধ্যে কাজ করার মানসিক প্রস্তুতিঃ রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ, ডিনার বা
ছুটির দিনের ব্যস্ত সময়ে একসঙ্গে অনেক গ্রাহক আসতে পারেন। তখন অল্প সময়ের মধ্যে
একাধিক অর্ডার নেওয়া, খাবার পরিবেশন করা, বিল সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া এবং
গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এই সময় কাজের চাপ
বেড়ে গেলেও ধৈর্য ধরে নিজের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করা গুরুত্বপূর্ণ।
৭. শারীরিকভাবে কর্মক্ষম হওয়াঃ রেস্টুরেন্টের অনেক পার্ট টাইম পদের কাজেই
দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা, টেবিলে খাবার পৌঁছে দেওয়া, অর্ডার পরিবেশন করা বা
রান্নাঘরের বিভিন্ন কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হয়। তাই নির্ধারিত শিফটের কাজ
স্বাচ্ছন্দ্যে সম্পন্ন করার মতো শারীরিক সক্ষমতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে
ওয়েটার, কিচেন হেল্পার ও ডেলিভারি কর্মীদের তুলনামূলক বেশি চলাফেরা করতে হয়।
তবে কাজের ধরন ও পদের দায়িত্ব অনুযায়ী শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা ভিন্ন হতে
পারে।
৮. মৌলিক হিসাব-নিকাশের জ্ঞানঃ রেস্টুরেন্টে ক্যাশিয়ার পদে কাজ করার জন্য
মৌলিক হিসাব-নিকাশের ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। অর্ডারের মোট বিল হিসাব করা,
গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করা, সঠিক পরিমাণ টাকা ফেরত দেওয়া এবং বিলের তথ্য
যাচাই করার মতো কাজ নিয়মিত করতে হয়। পাশাপাশি দৈনিক লেনদেনের হিসাব রাখা এবং
নগদ অর্থ সঠিকভাবে পরিচালনা করার দক্ষতাও প্রয়োজন হতে পারে। POS মেশিন, ক্যাশ
রেজিস্টার বা বিলিং সফটওয়্যার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকলে কাজ শেখা সহজ হয়।
৯. কাস্টমার সার্ভিস সম্পর্কে ধারণাঃ রেস্টুরেন্টে পার্টটাইম চাকরির
ক্ষেত্রে কাস্টমার সার্ভিস সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ
যোগ্যতা। গ্রাহকের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়, কীভাবে অর্ডার নিতে হয় এবং কোনো
অভিযোগ এলে কীভাবে তা সামলাতে হয় এসব বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা থাকলে রেস্টুরেন্টের
চাকরিতে সুবিধা পাওয়া যায়। বিশেষ করে ওয়েটার, রিসেপশনিস্ট ও কাস্টমার সার্ভিস
পদের ক্ষেত্রে এই দক্ষতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভালো কাস্টমার সার্ভিস গ্রাহকের
সন্তুষ্টি বাড়ানোর পাশাপাশি রেস্টুরেন্টের সুনাম ধরে রাখতেও সহায়তা করে।
এছাড়া ওয়েটার, ক্যাশিয়ার বা রিসেপশনিস্ট পদে কাজ করতে চাইলে ভালো যোগাযোগ
দক্ষতা, ধৈর্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস এবং হাসিমুখে গ্রাহকদের সেবা
দেওয়ার মানসিকতা থাকা ভালো। অনেক রেস্টুরেন্ট নতুন কর্মীদের কাজের ধরন অনুযায়ী
প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। তাই পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও কাজ শেখার আগ্রহ,
দায়িত্বশীলতা ও প্রয়োজনীয় মৌলিক দক্ষতা থাকলে রেস্টুরেন্টে পার্টটাইম চাকরি
পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
রেস্টুরেন্ট জব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বর্তমানে বাংলাদেশে রেস্টুরেন্টে চাকরির চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই
বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হচ্ছে। বিশেষ করে বড়
শহরগুলোতে ফাস্টফুড, ক্যাফে, হোটেল এবং রেস্টুরেন্টে নিয়মিতভাবে ওয়েটার,
ক্যাশিয়ার, কিচেন হেল্পার, ডেলিভারি স্টাফ এবং কাস্টমার সার্ভিস এক্সিকিউটিভ পদে
লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ বড় শহর ও
ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় রেস্টুরেন্টে চাকরির সুযোগ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
রেস্টুরেন্টে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সাধারণত বিভিন্ন অনলাইন জব পোর্টাল,
প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং চাকরিবিষয়ক প্ল্যাটফর্মে
প্রকাশ করা হয়। অনেক রেস্টুরেন্ট তাদের শাখার সামনে নিয়োগ চলছে বা We Are
Hiring নোটিশ দিয়ে সরাসরি কর্মী নিয়োগ করে। তাই শুধু অনলাইনে চাকরির বিজ্ঞপ্তি
খোঁজার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নিজের এলাকার রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, ফাস্টফুড শপ ও
হোটেলগুলোতেও নিয়মিত খোঁজ রাখা ভালো। এতে অনলাইনে প্রকাশ না হওয়া স্থানীয়
চাকরির সুযোগও পাওয়া যেতে পারে।
রেস্টুরেন্টে চাকরির বিজ্ঞপ্তি খোঁজার জন্য Bdjobs, Chakri.com, Bikroy Jobs,
Kormo Jobs, Shomvob এবং Jora এর মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত সার্চ করতে
পারেন। এসব প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন নতুন নতুন চাকরির বিজ্ঞপ্তি যুক্ত হয়।
আবেদনকারীরা সরাসরি অনলাইনে সিভি জমা দিয়ে বা আবেদন ফর্ম পূরণ করে খুব সহজেই
চাকরির জন্য আবেদন করতে পারেন। রেস্টুরেন্টে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণত শিক্ষাগত
যোগ্যতা হিসেবে এসএসসি বা এইচএসসি চাওয়া হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা না
থাকলেও আবেদন করা যায়।
কিভাবে রেস্টুরেন্টে চাকরির আবেদন করবেন?
বর্তমানে রেস্টুরেন্টে চাকরির আবেদন করা তুলনামূলক সহজ। আপনি অনলাইন ও অফলাইন
দুইভাবেই আবেদন করতে পারেন। বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট তাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনলাইন
জব পোর্টাল, অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া
নির্দেশনা অনুসরণ করে অনলাইনে সিভি বা আবেদন ফর্ম জমা দিতে পারেন। অন্যদিকে,
কাছাকাছি রেস্টুরেন্টে সরাসরি গিয়ে সিভি জমা দিয়েও আবেদন করা যায়। কিভাবে
রেস্টুরেন্টে চাকরির আবেদন করবেন-
প্রথমে রেস্টুরেন্ট চাকরির জন্য একটি সুন্দর ও তথ্যবহুল সিভি (CV) প্রস্তুত করতে
হবে। সিভিতে আপনার পূর্ণ নাম, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা
এবং পূর্বের কোনো চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলে তা উল্লেখ করুন। পাশাপাশি রেস্টুরেন্টে
কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত দক্ষতা, যেমন যোগাযোগ দক্ষতা, কাস্টমার সার্ভিস,
সময়ানুবর্তিতা ও দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা তুলে ধরতে পারেন। রেস্টুরেন্টে
চাকরির জন্য সাধারণত জটিল যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না।
অনলাইনে রেস্টুরেন্ট চাকরির আবেদন করতে চাইলে বিভিন্ন জনপ্রিয় জব পোর্টালে
নিয়মিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খুঁজতে পারেন। Bdjobs, Chakri.com, Bikroy Jobs ও Kormo
Jobs–এর মতো প্ল্যাটফর্মে রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, ফাস্টফুড শপ ও হসপিটালিটি খাতের
বিভিন্ন চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে। পছন্দের পদ ও যোগ্যতার সঙ্গে মিল
থাকলে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন ফর্ম পূরণ করে সিভি জমা দিতে হয়।
অফলাইনে রেস্টুরেন্ট চাকরির আবেদন করতে চাইলে পছন্দের রেস্টুরেন্টে সরাসরি গিয়ে
ম্যানেজার বা সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সঙ্গে একটি
আপডেটেড ও সুন্দরভাবে সাজানো সিভি নিয়ে যাওয়া ভালো। সেখানে খালি পদ সম্পর্কে
জানতে চেয়ে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও কাজের আগ্রহ সংক্ষেপে জানাতে
পারেন। অনেক রেস্টুরেন্টে সিভি নেওয়ার পর সরাসরি ইন্টারভিউ বা প্রাথমিক
সাক্ষাৎকার নিয়ে থাকে।
রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম জবের বেতন
রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম জবের বেতন মূলত কাজের ধরন, কর্মঘণ্টা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা
এবং রেস্টুরেন্টের অবস্থান ও প্রতিষ্ঠানের বেতন কাঠামোর ওপর নির্ভর করে।
বাংলাদেশে একজন পার্ট টাইম কর্মীর মাসিক আয় সাধারণত প্রায় ৬,০০০ থেকে ১৫,০০০
টাকা হতে পারে। তবে শিফটের সময় বেশি হলে, অভিজ্ঞতা থাকলে বা ব্যস্ত ও প্রতিষ্ঠিত
রেস্টুরেন্টে কাজ করলে আয়ের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এছাড়া পদভেদে বেতন ভিন্ন
হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে টিপস বা অন্যান্য সুবিধার মাধ্যমে অতিরিক্ত আয়ের
সুযোগও থাকে।
রেস্টুরেন্টের ওয়েটার, ক্যাশিয়ার, কিচেন হেল্পার বা ডেলিভারি কর্মী হিসেবে কাজ
করলে নির্ধারিত বেতনের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ থাকতে পারে।
বিশেষ করে ওয়েটার বা সার্ভার পদে গ্রাহকদের কাছ থেকে টিপস পাওয়ার সম্ভাবনা
থাকে। গ্রাহকদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার, দ্রুত সেবা প্রদান এবং অর্ডার সঠিকভাবে
পরিবেশন করতে পারলে টিপস পাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে টিপসের পরিমাণ নির্দিষ্ট
নয়, এটি রেস্টুরেন্টের নীতিমালা, গ্রাহকের সন্তুষ্টি এবং কাজের ধরন অনুযায়ী
কম-বেশি হতে পারে।
এছাড়াও কিছু রেস্টুরেন্টে ঈদ, পূজা, বাংলা নববর্ষ বা অন্যান্য বিশেষ উপলক্ষে
কর্মীদের জন্য উৎসব বোনাস দেওয়া হতে পারে। কিছু প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিতি,
ভালো কর্মদক্ষতা বা নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণের ভিত্তিতে পারফরম্যান্স বোনাসও দেওয়া
হয়। তবে এসব সুবিধা সব রেস্টুরেন্টে একই নয় এবং পার্ট টাইম কর্মীদের ক্ষেত্রে
শর্ত আলাদা হতে পারে। তাই নির্ধারিত বেতন, টিপস, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা মিলিয়ে
মোট মাসিক আয় ২০,০০০ টাকা বা তার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এটি কাজের সময়,
পদ, প্রতিষ্ঠান ও কর্মদক্ষতার ওপর নির্ভর করে।
কারা রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম জব করতে পারবেন?
রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম জব বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য আয়ের একটি ভালো
সুযোগ হতে পারে। বিশেষ করে যারা পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করতে চান, অবসর সময় কাজে
লাগাতে চান কিংবা নতুন কর্মঅভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান, তারা এই ধরনের চাকরিতে আবেদন
করতে পারেন। পদ ও রেস্টুরেন্টের নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যতা ভিন্ন হতে
পারে। দেখে নিন কারা রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম জব করতে পারবেন-
১. কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীঃ পড়াশোনার পাশাপাশি অতিরিক্ত
আয় করতে চান এমন শিক্ষার্থীদের জন্য রেস্টুরেন্ট পার্ট টাইম জব বেশ উপযোগী। অনেক
রেস্টুরেন্টে শিফটভিত্তিক কাজের সুযোগ থাকায় ক্লাস ও পড়াশোনার সময়ের সঙ্গে
কাজের সময় সমন্বয় করা যায়। ওয়েটার, ক্যাশিয়ার, কিচেন হেল্পার বা কাস্টমার
সার্ভিসের মতো পদে কাজ করে শিক্ষার্থীরা আয়ের পাশাপাশি বাস্তব কর্মঅভিজ্ঞতা
অর্জন করতে পারেন।
২. যাদের হাতে অতিরিক্ত সময় আছেঃ দিনের নির্দিষ্ট সময়ে যারা অবসর থাকেন,
তারা সেই সময়কে কাজে লাগিয়ে রেস্টুরেন্টে পার্টটাইম চাকরি করতে পারেন। বিশেষ
করে বিকেল, সন্ধ্যা বা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অনেক রেস্টুরেন্টে শিফটভিত্তিক কাজের
সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। যারা পড়াশোনা, ফ্রিল্যান্সিং, ব্যবসা বা অন্য কোনো
কাজের পাশাপাশি অতিরিক্ত আয় করতে চান, তাদের জন্য এই ধরনের চাকরি কার্যকর হতে
পারে।
৩. যাদের কম্পিউটার বা অফিসের কাজ জানা নেইঃ অফিস বা কম্পিউটারভিত্তিক
কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলেও রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন পদে চাকরি করা সম্ভব। যেমন
ওয়েটার, কিচেন হেল্পার, ক্লিনিং স্টাফ বা কিছু ডেলিভারি পদের জন্য বিশেষ
প্রযুক্তিগত দক্ষতা সবসময় প্রয়োজন হয় না। কাজ করতে করতে অর্ডার নেওয়া,
গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ, সময় ব্যবস্থাপনা ও দলগতভাবে কাজ করার মতো দক্ষতা অর্জন
করা যায়।
৪. যাদের গ্রাহকসেবা বা অতিথি আপ্যায়নে আগ্রহ আছেঃ মানুষের সঙ্গে কথা
বলতে এবং গ্রাহকদের সেবা করতে আগ্রহী ব্যক্তিরা রেস্টুরেন্টের কাজে ভালো করতে
পারেন। বিশেষ করে ওয়েটার, রিসেপশনিস্ট ও কাস্টমার সার্ভিস পদের জন্য ভদ্র
ব্যবহার, ভালো যোগাযোগ দক্ষতা, ধৈর্য এবং হাসিমুখে সেবা দেওয়ার মানসিকতা
গুরুত্বপূর্ণ। এসব গুণ থাকলে গ্রাহকের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি
কর্মক্ষেত্রে ভালো পারফরম্যান্স করার সুযোগও বাড়ে।
রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম জব পাওয়ার উপায়
বর্তমানে রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম জব পাওয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে।
প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে এখন চাকরিপ্রার্থীরা ঘরে বসেই বিভিন্ন অনলাইন
প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখতে এবং সরাসরি আবেদন করতে পারেন।
দেশের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, ফাস্টফুড শপ, ক্যাফে এবং ফুড ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান
নিয়মিত পার্ট টাইম কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকে। তাই সঠিক জায়গায় খোঁজ করলে সহজেই
উপযুক্ত চাকরির সুযোগ পাওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় কয়েকটি জব পোর্টাল ও চাকরি খোঁজার প্ল্যাটফর্ম হলো Bdjobs,
Chakri.com, Bikroy Jobs, Kormo Jobs, Bdjobs Mobile App, Shomvob, Jora Jobs
Bangladesh.। এসব প্ল্যাটফর্মে ওয়েটার, ক্যাশিয়ার, কিচেন হেল্পার, ডেলিভারি
রাইডার, রিসেপশনিস্ট এবং কাস্টমার সার্ভিসসহ বিভিন্ন ধরনের রেস্টুরেন্ট চাকরির
বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে পার্ট টাইম এবং এন্ট্রি-লেভেল
চাকরির জন্য এসব প্ল্যাটফর্ম বেশ কার্যকর।
বর্তমানে অনেক চাকরি সাইটে আলাদা Part-Time Jobs বিভাগও রয়েছে, যেখানে শুধুমাত্র
খণ্ডকালীন চাকরির বিজ্ঞপ্তিগুলো দেখা যায়। শুধু অনলাইন জব পোর্টাল নয়, অনেক
রেস্টুরেন্ট তাদের নিজস্ব ফেসবুক পেজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিয়োগ
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকে। তাই নিয়মিত এসব পেজ অনুসরণ করলে নতুন চাকরির খবর
দ্রুত পাওয়া যায়। এছাড়া নিজের এলাকার জনপ্রিয় রেস্টুরেন্টগুলোতে সরাসরি সিভি
জমা দিয়েও চাকরির সুযোগ পাওয়া সম্ভব।
লেখকের মন্তব্যঃ রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম চাকরি
রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম চাকরি বর্তমানে শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য আয়ের
পাশাপাশি কর্মঅভিজ্ঞতা অর্জনের একটি বাস্তবসম্মত সুযোগ। বিশেষ করে যারা পড়াশোনার
পাশাপাশি অতিরিক্ত আয় করতে চান, তাদের জন্য শিফটভিত্তিক এই কাজ বেশ উপযোগী হতে
পারে। অনেক এন্ট্রি-লেভেল পদে উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পূর্ব অভিজ্ঞতা
বাধ্যতামূলক না হওয়ায় নতুনরাও ক্যারিয়ার শুরু করার সুযোগ পান।
রেস্টুরেন্টে কাজ করার মাধ্যমে শুধু অর্থ উপার্জনই নয়, বরং বাস্তব জীবনের অনেক
গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা অর্জন করা যায়। যেমন-গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলার দক্ষতা, সময়
ব্যবস্থাপনা, দায়িত্বশীলতা এবং দলগতভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা। এসব দক্ষতা ভবিষ্যতে
যেকোনো পেশাগত জীবনে অনেক কাজে লাগে। তবে এই চাকরিতে নিয়মিত শিফটে কাজ করতে হয়
এবং কখনো কখনো ব্যস্ত সময়ে চাপের মধ্যেও দায়িত্ব পালন করতে হয়।



বিডি টেকল্যান্ডের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url